'' বাংলা সাহিত্যের আসর ''

যে সমস্ত লেখক ও লেখিকা ' বাংলা সাহিত্যের আসরে ' তাদের নির্বাচিত লেখা প্রকাশ করতে চান,তারা তাদের লিখিত বিষয় টি Microsoft Words - এ লিখে অথবা Photo Shop -এ চিত্রসহ বিষয়টি প্রস্তুত করে samarkumarsarkar@yahoo.co.in বা samarkumarsarkar@gmail.com -এ E-mail করে পাঠিয়ে দেবেন । সদস্য হবার জন্য ও মন্তব্য লেখার জন্য Google Friend Connect ব্যবহার করুন। ব্লগ টিকে আপনাদের Face Book-এ Share করুন।

Wednesday, June 13, 2012

মৃত্যু তুমি আজ পরাজিত - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

              
মৃত্যু তুমি আজ পরাজিত

জানি কোন দিন প্রাণ,জীবনের জয়গান,
কেড়ে নেবে মৃত্যু অবিনাশী।
ত্যজি দেহ পিঞ্জরে,প্রাণ-পাখী চিরতরে
উড়ে যাবে মহাশূন্যে ভাসি-
অচিন আলোক পথে,মৃদু মন্দ বায়ু-রথে,
কোথা কোন অজ্ঞাত স্হানে।
জনম লভিয়া পুনঃ,মানুষ হইব হেন,
না কি হব লীন কে বা জানে।
জীবনের মহাস্রোতে,জনম লগন হ'তে
ঠাঁই মোর পৃথিবীর ক্রোড়ে,
বিদায় চাহে না মনে,তবু হায় অকারণে,
ছেড়ে যেতে হবে ধরণী রে।
সুনীল বারিধি ঘেরা,মোহময় এই ধরা,
ঊর্ধ্বে মুক্ত নীল মহাকাশ,
অগণিত গ্রহ তারা,উজল আলোক ধারা,
প্রাণদায়ী অমৃত বাতাস।
ছায়াঘেরা বনভূমি,মহাগিরি পদ চুমি
বহমান নির্ঝরিণী ধারা,
একে একে মিলে আসি,সমুদয় জলরাশি,
সাগর মিলনে হ'তে হারা।
তৃণভূমি তরু লতা,অলিকুল মুখরতা,
বিহগের সুমধুর তান,
জ্যোৎস্না প্লাবিত রাত,বাদলের ধারাপাত,
সবে পূর্ণ ছিল মোর প্রাণ।
পরিজন পরিবার,জীবিকা নির্বাহ ভার,
মুকুলিত কত সার্থকতা,
এত প্রেম ভালবাসা,নিত্য নব নব আশা,
বাঁচিবার চির ব্যাকুলতা।
সকলি ছাড়িতে হবে,স্মৃতি মাত্র শুধু রবে,
মৃত্যু হ'তে নাহি কারো পার,
যাব,তবে যদি যাই,পূর্ণ করে যেতে চাই,
যাহা কিছু মোর দায় ভার।

যৌবন সায়াহ্ন শেষে,ক্লান্ত পদে আছি বসে,
যাত্রী আমি হব তরী পার,
মসি লিপ্ত দশ দিশি,শঙ্কা মনে দিবা নিশি,
এই বুঝি এলো কর্ণধার।
আসিব না ফিরে আর,মুক্ত করো ঋণ-ভার,
লালিত বাসনা এই মনে,
বিদায়ের দেরী নাই,ধরাকে দেখিতে চাই
পরিপূর্ণ আপনার জনে।
তোমাদের যত ঘৃণা,পুঞ্জীভূত খেদ নানা,
জন্মিয়াছে মনে তিলে তিলে,
আসিতেছে শুভ ক্ষণ,মুক্ত সবে করো মন,
আমা পরে দাও সব ঢেলে।
লাঞ্ছনা,গঞ্জনা নানা,পদে পদে প্রতারণা,
সহিয়াছ মুখ বুজে মিছে,
পাও নাই প্রতিকার,বাঁচিবার অধিকার,
পড়িয়া থেকেছ শুধু পিছে।
জন্মেছি মানুষ হ'য়ে,যাব স্বার্থমুক্ত হ'য়ে,
আমি মানুষের প্রতিনিধি।
তোমাদের বিষ জ্বালা হোক মোর গলে মালা,
তোমাদের ঋণ আজি শুধি।
আর যদি ফিরে আসি,তোমাদের ভালবাসি,
জন্ম লব কোন এক ঘরে,
চিনিতে পারিবে মনে,তোমাদের প্রিয় জনে,
জ্ঞানে ঋদ্ধ এক তাপসেরে।
মানুষেরে ভালবাসা,একমাত্র হবে ভাষা,
রাখিব না কোন ভেদাভেদ,
জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায়ে,রহিবে মিলিত হয়ে,
দূর করি মলিনতা ক্লেদ।
মৃত্যুরে করিয়া জয়,আমি আজ নির্ভয়,
মৃত্যু তুমি আজ পরাজিত।
যত দিন আছে প্রাণ,মানুষের গাহি গান,
করিব শুধুই জনহিত।

**********************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

**********************************
Creative Commons License
মৃত্যু তুমি আজ পরাজিত by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution 3.0 Unported License.
Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="http://purl.org/dc/dcmitype/Text" property="dct:title" rel="dct:type">মৃত্যু তুমি আজ পরাজিত</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=9102536188935606284" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/">Creative Commons Attribution 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]


Monday, June 11, 2012

ঘটকালি - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



ঘটকালি

হুগলী জেলার অখ্যাত গ্রাম,নামটি পাইকপাড়া,
সেথায় বসত করেন ঘটক আনন্দরাম ধারা।
চাল চলনে সপ্রতিভ,মধুর মুখের বুলি,
বংশপরম্পরায় তাহার পেশা টি ঘটকালি।
পাত্র পাত্রী যেমন টি চান,ভাবনা কিছুই নাই,
জুটিয়ে দেবেন আনন্দরাম,যেমন টি ঠিক চাই।
কানা,খোঁড়া,অন্ধ,টেরা,বেঁটে,বোবা,নুলা,
ঢ্যাঙা,কুঁজো,নেকা,টেকো,তোতলা,কানে কালা।
উট-কপালী,চিরুণ-দাঁতি,শ্লীপদ,খড়ম-পেয়ে,
ভাগ্যহত যাদের আছে এমন ছেলে মেয়ে,
পাইক পাড়ায় গিয়ে খাতায় লেখান শুধু নাম,
হবে বিয়ে যোগ্যতাসই,পুরবে মনস্কাম।

আনন্দরাম ভালই জানেন আপন কর্মধারা,
খুঁতের সাথে খুঁত মিলিয়ে দুইটি হৃদয় জোড়া।
তাহার ঘটকগিরির নিয়ম,আর কোথাও না পাবে,
পাত্র-পাত্রীর দেখা শুধুই বিয়ের সময় হবে।
উভয় পক্ষের বাড়ি তিনি যাবেন নিয়ম মত,
কথার প্যাঁচে জবাব দেবেন,প্রশ্ন করুন যত।
পাত্র-পাত্রী বুঝতে হবে আপন অনুমানে,
পাঁচ হাজার ও ঘটক বিদায় দিতে হবে গুনে।
এই ভাবেতে শত শত বিয়ে দিয়ে তিনি,
ঘটক কুলে পরিচিত 'ঘটক চূড়ামণি'।
সব পেশাতেই আছে ঝুঁকি,বিপদ সম্ভাবনা,
সময় সময় জোটে তার ও লাঞ্ছনা,গঞ্জনা।

বলাগড়ের গৃহস্থ এক ধনী চাষীর বাড়ি,
আনন্দরাম করতে গেলেন বিয়ের ঘটকগিরি।
মেয়ের বাবা ধনী চাষী প্রশ্ন করে,-''মশায়,
পাত্রটিকে দেখতে কেমন?কেমন বিষয় আশয়?
''জলযোগের ফাঁকে ফাঁকে আনন্দরাম বলে-
''এক হাতে সব কার্য সারে,এমন কাজের ছেলে।
ঘর-বাড়ি কি বলবো মশাই,আলোয় আলোকময়,
ছেলে স্বয়ং 'আঁধার মাণিক',সর্ব জনে কয়।
এক কাপড়ের উপরেতে আর এক কাপড় পরে,
আপন কার্য করে ছেলে ঘোড়ার গাড়ি চড়ে।
বর্ষাকালে ঘরের পাশে মাছেতে খলবল,
মন্দ নয় কো ছেলে,তাহার ভাগ্য যে সম্বল।''

বোকা চাষী ভাবে বসে,''আমার ভাগ্যফলে,
পেয়ে গেলাম উপযুক্ত,এমন ভাল ছেলে।
এক হাতে সব কার্য সারে,কাজের ছেলে বটে,
আলোয় আলোকময় বাড়ি,আহ্লাদে প্রাণ ফাটে
ঘরে ঘরে আলো জ্বলে,এত সুন্দর বাড়ি!
কাপড় কেনে গাদা গাদা,এত টাকা-কড়ি।
কাজ করতে যায় যে ছেলে, ঘোড়ার গাড়ি চড়ে।
বাড়ির পাশের পুকুরেতে মাছ খলবল করে।
'মন্দ নয় কো ছেলে',মানে চরিত্র টি ভাল,
আমার মেয়ের মুখে এবার ফুটবে খুশীর আলো।
'ভাগ্য সম্বল' মানে হ'লো,ছেলে ভাগ্যবান,
মনের আশা পূর্ণ হ'লো,ও গো ভগবান।''

কুন্তিঘাটের বিলের ধারে জীর্ণ কুটির সারি,
আনন্দরাম গেলেন সেথা পাত্র পক্ষের বাড়ি।
ছেলের বাবা বলেন,''মশাই,মেয়ের কি কি গুণ?
কাজকর্ম জানে ভাল? রান্না তে নিপুণ?
চেহারা টা কেমন ধারা,সেটা ও বলুন আগে,
আমার সেবা করতে হবে,বলছি আগে ভাগে।''
আনন্দরাম বলেন,''মশাই,হবেন যে ঘুমহারা,
কাজের বেলায় মেয়ে সদাই এক পায়েতে খাড়া।
দৃষ্টি দিলে মেয়ের দিকে,মাথা যাবে ঘুরে,
কপালে জল ঢাললে মেয়ের গায়ে তে না পড়ে।
দাঁতের সারির উপর তাহার আলো করে খেলা,
ধ্যান করে সে নিয়মিত,সকাল সন্ধ্যা বেলা।''

গেঁয়ো মজুর ছেলের বাবা,হলেন আত্মহারা,
''কাজের বেলায় মেয়ে আহা,এক পায়েতে খাড়া!
এমন কাজের মেয়ে পেলে,গিন্নী হবেন খুশী,
আমার দিকে নজর দিতে পারবে তখন বেশী।
কপালে জল ঢাললে মেয়ের বাইরে গিয়ে পড়ে,
চামড়া যে তার তেলতেলে,তা বুঝেছি এ বারে।
দাঁতের সারির উপর আলো কেন করে খেলা?
ঝকঝকে তার দাঁতের পাটি,বোঝে না কোন শালা?
মেয়ে আবার দুই বেলাতে,ধ্যান ও দেখি করে,
দেবতাদের দয়ায় অভাব থাকবে না আর ঘরে।
এমন ভাল মেয়ে পেয়ে,আমি বেজায় খুশী,
ঘটক যা চাবে,আমি দেব তার ও বেশী।''

শর্ত ছিল,ঘটক বিদায় আগে,পরে বিয়ে,
দুই পক্ষই দিল বেশী,বড়ই খুশী হয়ে।
বিয়ের সময় দুই পক্ষের চক্ষু ছানাবড়া,
যা শুনেছে,যা ভেবেছে,ফারাক আগা-গোড়া।
বাম হাত টি নুলো ছেলের,ডান হাত টি ভাল,
অন্ধকারে যায় না দেখা,ছেলে এমন কালো।
মেয়ের ভাল এক খানি পা,অপর পা টি ছোট,
কপাল যেন ঢেউ-খেলানো,উঁচু ভুরু দু'টো।
দাঁতের পাটি এমন উঁচু,বন্ধ না হয় মুখ,
উভয় পক্ষের অবস্থাতে,উভয় পক্ষের দুঃখ।
এই দুনিয়ায় কোন কিছুই নয় কো অসম্ভব,
বিয়ে হলো লগ্ন মত,হলো ও উৎসব।

বিয়ের পরে উভয় পক্ষ,এলো ঘটক বাড়ি,
বললো,''মশায়,বেশ ঠকালেন,করে জুয়াচুরি।''
মেয়ের বাবা বলে,-''মশায়,বলেছিলেন ভাল,
কে জানতো 'আঁধার মাণিক' তেল কুচকুচ কালো?
বিলের ধারে খড়ের বাড়ি,ফুটো ঘরের চালা,
নুলো জামাই ঘোড়ার গাড়ি চালায় সারা বেলা।
তালি মারা জামা কাপড়,ভাগ্যে জুটলে খায়,
আহা মরি!ঘটক মশায়,প্রণাম তোমার পা-য়।''
ছেলের বাবা বলে,-''মশাই,মেয়ের ফিটের ব্যামো,
তার সেবাতেই কাটছে যে দিন,গেছে রাতের ঘুম ও।
উট-কপালী বৌমা আমার,দাঁত দু'পাট উঁচা,
এক পায়েতে লাফিয়ে চলে,দিলেন বুকে খোঁচা।

আনন্দরাম বলেন,-"মশাই,শুনুন দু'জনেতে,
মিথ্যা কথা বলিনি তো,আমি কোন মতে।
বুদ্ধিমানের কাছে গিয়ে করেন যদি বিচার,
প্রমাণ হবে,কোন কথাই মিথ্যা না কো আমার।
মেয়ের বাড়ি গিয়ে যদি বলি,'ছেলে নুলো',
আর কিছু কি শুনবে তারা ? কানে দেবে তুলো।
ছেলের বাড়ি গিয়ে যদি বলি,'মেয়ে খোঁড়িা',
করবে তাড়া লাঠি নিয়ে,ভাঙবে দাঁতের গোড়া।
দুইটি হৃদয় মিলিয়ে দেওয়া,সেটাই আমার গুণ,
কি বা ক্ষতি,পানের থেকে খসলে পড়ে চূণ ?
প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়ের মনে বড়ই দুঃখ,
তাদের সুখী ক'রতে পেরে,আমি যে পাই সুখ।"

****************************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
****************************************
Creative Commons License
ঘটকালি by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution 3.0 Unported License.
Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="http://purl.org/dc/dcmitype/Text" property="dct:title" rel="dct:type">ঘটকালি</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=7552065793467301269" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/">Creative Commons Attribution 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Saturday, June 9, 2012

নাছোড়বান্দা - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



নাছোড়বান্দা

'বিয়ে কেন দেয় না বাবা',মদন রেগে কাঁই,
নানান কথা হচ্ছে রোজ-ই,বিয়ের কথাই নাই।
বন্ধুরা সব গল্প করে,'বৌ-এর কত সোহাগ',
বাড়ে তাতে প্রেমের তৃষা,মনের অনুরাগ।
ভাবে মদন,''শিষ্টাচারের এ এক বিষম জ্বালা,
সব কথা যে বাবা-মা কে যায় না খুলে বলা।
বাড়ছে বয়েস,সঙ্গীবিহীন আর কি থাকা যায়?
যে ক'রে হোক ক'রতে হবে কিছু এক উপায়।''

বুদ্ধি ক'রে মদন গিয়ে মায়ের কাছে বসে,
মজার মজার গল্প করে,পরাণ খুলে হাসে।
সুযোগ বুঝে মা-কে বলে,-''সংসসারে কি ঠেলা,
বাসন মাজা,কাপড় কাচা,রান্না ও দুই বেলা।
ছোট থেকেই দেখছি আমি,তোমার কি খাটুনি,
সারা জীবন কাটালে মা,হ'য়ে ঝি রাঁধুনি।
তার চেয়ে এক কাজ করো মা,আনো কাজের মেয়ে,
সকাল বিকাল আয়েস করো বিছানা-তে শুয়ে।''

মা হেসে কন পরম স্নেহে,-''ও রে পাগল ছেলে,
রান্না করা,বাসন মাজা,লেখা যে কপালে।
স্বামীর সেবা,ছেলের যতন,এর বড় কি আছে,
সংসার টা ছেড়ে দেব কাজের মেয়ের কাছে?
কাজের মেয়ে রাখলে পরে খরচ যাবে বেড়ে,
তোর বাবা যে দুধ খায় রোজ,দিতে হবে ছেড়ে।
না রে মদন,ভাবিস না রে,কষ্ট আমার নাই।''
মদন বলে মনে মনে,'কপালে মোর ছাই।'

ক'দিন পরে মদন গিয়ে বাবা-কে তার বলে,-
''দিন তো তোমার ফুরিয়ে এলো,হঠাৎ যাবে চলে।
তোমার কথাই ভাবছি ক'দিন,শাস্ত্রে লেখা তাই-
নাতি দিলে মুখে আগুন,স্বর্গেতে হয় ঠাঁই।
তোমার ঘরে এত দিনেও এলো না তো নাতি,
শ্রাদ্ধে তোমার ফটোর মাথায় কে ধরবে ছাতি ?
আমার কি আর ?তোমার কথা ভেবেই আমার বলা,
কে দেবে এই বংশে বাতি,তোমার গলায় মালা ?''

বাবা বলেন,-''দেখ মদনা,দিস নে আমায় জ্ঞান,
শাস্ত্রে যে সব লেখা আছে ব্রাহ্মণের বিধান-
নানা রকম কায়দা ক'রে হাতিয়ে নেওয়ার তাল,
আগের দিনে মানতো ও সব,মানে না আজকাল।
ছেলে হ'য়ে শুয়ে থাকিস,বাজার ক'রি আমি,
গ্রীষ্মকালের প্রখর রোদে দরদরিয়ে ঘামি।
তখন তো আর কেউ ধরে না,আমার মাথায় ছাতি,
মরার পরে ছাতি ধ'রে হবে ব্যাঙ আর হাতী।''

মদন ভাবে,''ব্যাপার টা যে হ'য়ে গেল লঘু,
হয় বাবা-মা ভীষণ সরল,নয় তো চালাক ঘুঘু।
লাভ কিছু নেই এদের কাছে ইনিয়ে-বিনিয়ে,
ফন্দি কিছু ক'রতে হবে,ক'রতে হলে বিয়ে।''
মদন গেল অতি বৃদ্ধা ঠাকুর মা-এর ঘরে,
পরামর্শ ক'রলো দু'জন সপ্তাহ কাল ধ'রে।
গোপনেতে চললো নানা আচার আয়োজন,
মুচকি হাসে মদন সদা পুলকিত মন।

হঠাৎ এক দিন হুলুস্থুলু,মদনের বাড়ী তে,
ক'রবে মদন শ্রাদ্ধ ক্রিয়া,হিন্দু শাস্ত্র মতে।
চেয়ারেতে বাবা-মায়ের ফটো,গলায় মালা,
সামনে নানা উপকরণ সুসজ্জিত ডালা।
পুরোহিত তো এসেই গেছে,এসেছে নাপিত,
ক'রবে মদন মাথা ন্যাড়া,শাস্ত্রে যা বিহিত।
খবর পেয়ে বাবা এসে,বলে,''বাবা মদন,
বল দেখি কি হচ্ছে এ সব,শান্ত ক'রি মন।''

মদন বলে,''বাবা-মায়ের কষ্ট দেখে মরি,
পাবে সেবা তোমরা দু'জন যদি বিয়ে ক'রি।
কিন্তু দেখি,বিয়ের কথা তোলোই না যে কেহ,
বিয়ে আমার হবে কি না হ'তেছে সন্দেহ।
তোমরা মরলে আমি আছি,আগুন দেব মুখে,
শ্র্রাদ্ধ হবে ঘটা ক'রে,স্বর্গে যাবে সুখে।
আমি যদি হঠাৎ ক'রে ধরো মরে যাই,
ছেলে দেবে মুখে আগুন, ছেলে কোথায় পাই ?

এই দুঃখেতে ঠিক ক'রেছি,হবো যে সন্ন্যাসী,
বৃথা সময় নষ্ট্ করা,বিয়ের আশায় ব'সি।
যাবার আগে আমার কাজ টা সেরে রেখে যাই,
মরলে পরে স্বর্গে যাবে চিন্তা কিছুই নাই।''
বাবা-মায়ে কেঁদে বলে,''ক্ষান্ত দে রে বাবা,
চোখ ফুটেছে আমাদের ও,ছিলাম হাবা-গোবা।
বেঁচে থেকেও নিজের শ্রাদ্ধ,সহে না আর প্রাণে,
কথা দিলাম,কাল পরশুই খুঁজবো বিয়ের কনে।''

সজল চোখে মদন তাদের চরণ ছুঁয়ে বলে,-
''ক্ষমা ক'রো তোমরা আমায়,আমি অধম ছেলে।
যা ক'রেছি,তাতে যদি হয়ে থাকে পাপ,
মাফ যদি না করো,মনে থাকবে অনুতাপ।''
বিদায় নিলো পুরোহিতে,নাপিত গেল চলে,
ভাড়া করা উপকরণ মদন ফেরৎ দিলে।
নাছোড়বান্দা যারা,তাদের একটি বিরাট গুণ,
আপন কার্য সিদ্ধিতে হয় অতীব নিপুণ।


***********************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
***********************************
Creative Commons License
নাছোড়বান্দা by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution 3.0 Unported License.
Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="http://purl.org/dc/dcmitype/Text" property="dct:title" rel="dct:type">নাছোড়বান্দা</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=8689829972964420670" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি </a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/">Creative Commons Attribution 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Friday, June 8, 2012

প্রতিশোধ - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি





প্রতিশোধ

নিম দাঁতনে দাঁত মেজেছি,মুখ হয়েছে তেতো,
কার পিছনে লাগি এখন,খুঁজতে থাকি ছুতো।
কেউ নেই তো আশেপাশে,যাচ্ছে উড়ে কাক,
তাকেই গালি দিয়ে বলি,-''ডাক রে শালা,ডাক।
তোর বাপ-মা আর কিছু তো কাজ পায় নি খুঁজে,
জন্ম দিয়ে রেখে গেছে,লাগবি কিসের কাজে ?
চার দিকেতে মানুষ কাকে করছে কেবল কা- কা -
শুধুই প্রচার নিজের গুণের,যায় না যে আর থাকা।
মাথায় ওদের শুকনো গোবর,পোকাতে কিলবিল,
ঠুকরে দে গে ওদের মাথায়,নয় তো খাবি ঢিল।
কাক হয়েছিস,বেশ করেছিস,কাকের বাচ্চা কাক,
ঝগড়ুটে সব মানুষ-কাকের গুষ্ঠি নিপাত যাক''।

একটু পরেই দেখি যে এক যাচ্ছে হুলো বিড়াল,
দাঁত খিঁচিয়ে বলি,- ''বেটা,তুমি কাদের দালাল ?
চুরি ক'রে খাচ্ছ সবার দুধের ননী,সর,
মাদী বিড়াল দেখলে পরেই যাও পিছু তার ঘর।
বাপ-মা যে তোর হুলো-মেনি,হুলোর বেটা হুলো,
পরের ধনে পোদ্দারি তোর,বেটা রাঙা মুলো।
পেতে কদর,বেটা বাঁদর,চাটিস প্রভুর ঘাম।
তোর মত সব মানুষ যারা,তাদের ই আজ দাম।
মানুষ রূপী ভণ্ড বিড়াল ঘুরছে সমাজেতে,
যা বেটা তুই,থাক না গিয়ে তাদের বিছানা তে''।
ওদের গালি দিচ্ছি কি আর ? ওরা তো নির্বোধ,
ভেবে দেখো,কাদের উপর নিচ্ছি প্রতিশোধ।

************************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

************************************
Creative Commons License
প্রতিশোধ by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution 3.0 Unported License.
Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="http://purl.org/dc/dcmitype/Text" property="dct:title" rel="dct:type">প্রতিশোধ</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=2071682615523732700" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি </a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by/3.0/">Creative Commons Attribution 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]