'' বাংলা সাহিত্যের আসর ''

যে সমস্ত লেখক ও লেখিকা ' বাংলা সাহিত্যের আসরে ' তাদের নির্বাচিত লেখা প্রকাশ করতে চান,তারা তাদের লিখিত বিষয় টি Microsoft Words - এ লিখে অথবা Photo Shop -এ চিত্রসহ বিষয়টি প্রস্তুত করে samarkumarsarkar@yahoo.co.in বা samarkumarsarkar@gmail.com -এ E-mail করে পাঠিয়ে দেবেন । সদস্য হবার জন্য ও মন্তব্য লেখার জন্য Google Friend Connect ব্যবহার করুন। ব্লগ টিকে আপনাদের Face Book-এ Share করুন।

Sunday, October 14, 2012

রম্য রচনা: দেবীর আগমনী সংবাদ - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি


রম্য রচনা: দেবীর আগমনী সংবাদ


দেবর্ষি নারদের মুখ ভার,হৃদয়ে কণা মাত্র সুখানুভূতি নাই।সৃষ্টির আদি লগ্ন হইতে দেবতা, দানব, গন্ধর্ব, কিন্নর, মুনি, ঋষি, মায় নর কুল, সকলেই কলহ কালে ঘোর বিবাদের উদ্ভব হইলে, দেবর্ষি কে স্মরণ করিতেন। দেবর্ষি উৎফুল্ল চিত্তে স্বয়ং উপযাচক হইয়া বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের নিকট গমন করিয়া এরূপ পরস্পর বিরুদ্ধ মন্ত্রণা দান করিতেন যে, কলহ ভয়াল রূপ ধারণ করিত, এবং অবশেষে দেবর্ষি যোগ্যতর পক্ষ অবলম্বন করিয়া তাহাকে বিবাদে জয়ী হইতে সাহায্য করিতেন। এই উপায়ে তিনি বিশেষ আত্মসুখ লাভ করিতেন এবং নিজের ও মহাত্মাদিগের মহিমা প্রচার করিতেন। কিন্তু বর্তমান কালে দেবতা দানব বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ নাই বলিলেই চলে। মনুষ্যলোকের মনুষ্যেরা এখন স্বয়ং কলহ নিপুণ, নিজেরাই কলহ করেন, নিষ্পত্তি না হইলে আদালতের দ্বারস্থ হন। অতএব দেবর্ষির মহিমা এখন লুপ্ত প্রায়। হৃত গৌরব উদ্ধার হেতু নারদ মনস্থ করিলেন স্বর্গলোকের তিন দিকপাল ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মধ্যে কোন একজনকে যদি কলহে প্ররোচিত করা যায়, তবে তাহার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হয়। ব্রহ্মা একে অতি বৃদ্ধ, তায় পরম জ্ঞানী, তাহাকে কলহে প্ররোচিত করা দুষ্কর। বিষ্ণু দেবতা গণের মধ্যে সর্বাপেক্ষা চতুর, এবং তিনি দেবর্ষির উপাস্য দেবতা, সুতরাং এই পরিকল্পনা রূপায়ণ ও অসম্ভব। কৈলাসপতি মহেশ্বর একে ভোলে ভালা নেশাখোর, তায় পু্ত্র , কন্যা ও ভার্যা সহ এক পরিবারের প্রধান। দেবর্ষি জানেন, যিনি নেশাখোর, স্বভাব ক্ষ্যাপা এবং সংসার প্রতিপালনে নিমগ্ন, তাহাকে সহজেই কলহে লিপ্ত করানো সম্ভব। কিন্তু কলহতেও ক্ষেত্রের প্রয়োজনহয়। সুচতুর দেবর্ষি জানেন কলহের যত উৎস বিদ্যমান, তন্মধ্যে স্ত্রী জাতিই সর্বোৎকৃষ্ট। শরৎকাল আগত প্রায় , দেবী দুর্গা সপরিবারে মর্ত্যভূমে পিত্রালয় গমনের আয়োজনে ব্যস্ত। যদি বুদ্ধি বলে শিব ও পার্বতীর মধ্যে বিবাদের সূচনা সম্ভব হয়, তবে উপায় লাভ সম্ভব। অতএব, দেবর্ষি উপায় উদ্ভাবনে প্রবৃত্ত হইলেন।
দেবর্ষি মর্ত্যলোকের এক শপিং মল হইতে এক অত্যাধুনিক শক্তিশালী ল্যাপটপ উত্তোলন করিয়া মহেশ্বর সমীপে উপস্থিত হইয়া কহিলেন, "প্রভু, এই অমূল্য যন্ত্রে মর্ত্যের যাবতীয় লোকদিগের জীব লীলা প্রত্যক্ষ করুন, স্বয়ং ফেসবুক বা মুখ পুস্তিকাতে অংশ গ্রহণ করতঃ ভক্তদিগের সম্বন্ধে সম্যক অবগত হউন। অতঃপর দেবর্ষি মহেশ্বরকে ফেসবুকে ভোলানাথ মহেশ্বর নামকরণে একটি প্রোফাইল খুলিয়া দিলেন , এবং ফেসবুকে কি কি কার্যক্রম কি কি উপায়ে সম্পন্ন হয়, তাহা বিশদ রূপে বুঝাইয়া দিলেন। মহেশ্বর আমার বা আপনাদের মত চাকুরী বা ব্যবসায় নিযুক্ত নহেন, কাজেই অখণ্ড অবসর, তাই নুতনকে জানিবার প্রয়াসে সমগ্র বিশ্বের ১০-১২ কোটি প্রোফাইল হাতড়াইয়া আনন্দিত চিত্তে কালাতিপাত করিতে লাগিলেন। অভিজ্ঞতা শুধু মানুষকেই নয়, ঈশ্বরকে ও সমৃদ্ধ করে। মহেশ্বর লক্ষ্য করিলেন , ফেসবুকে জনপ্রিয় এবং সর্বজন পরিচিত হইবার সহজতম পন্থা হইল, কারণে হউক আর অকারণে হউক, নিজের এবং পরিবারের সকলের রঙ্গীন আলেখ্য ( ফটো ) নিয়মিত প্রকাশ করিয়া নিজেকে জাহির করা। ক্ষেপা মহেশ্বর তৎক্ষণাৎ নন্দি নামক অনুচরকে প্রেরণ করিয়া নারদকে আনয়ন করিলেন এবং সন্মান প্রদর্শন পূর্বক আপন অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন। দেবর্ষির খুশীর অন্ত নাই, তিনি আনন্দিত, কারণ, দেবের দেব মহাদেব ও মনুষ্য সৃষ্ট ফেসবুকের প্ররোচনায়, যশের কাঙাল হইয়া স্বেচ্ছায় তাহার জালে ধরা দিয়াছেন। অতএব গৃহবিবাদের লগ্ন আসন্ন। মহেশ্বর দেবর্ষি কে সতর্ক করিয়া কহিলেন, "আমি ভিন্ন আর সকলের আলোক চিএ গ্রহণের সময় খেয়াল রাখিবে, যেন তাহারা বুঝিতে না পারেন যে তাহাদের আলোক চিত্র গৃহীত হইয়াছে। আরও খেয়াল রাখিবে, আলোক চিত্র গ্রহণের সময় যেন কাহার ও হস্তে অস্ত্র-শস্ত্র, লীলাকমল, শঙ্খ, চক্র, রত্নসিন্দুক ,বীণা প্রভৃতি দেবচিহ্ন্ বর্তমান না থাকে এবং সঙ্গে যেন কোন বাহন না থাকে। যথা আজ্ঞা বলিয়া দেবর্ষি স্বয়ং জাপান হইতে মহা মূল্যবান ক্যামেরা ও গুপ্ত ক্যামেরা আনয়ন করিয়া আপন কার্যে প্রবৃত্ত হইলেন।
প্রথমে মহেশ্বর ফেসবুকের ওয়ালে আপন চিত্র প্রকাশ করিলেন। মস্তকে সর্প, চন্দ্র বা গঙ্গার চিহ্নমাত্র নাই, গলায় সর্পের কুণ্ডলী নাই, পরণে ব্যাঘ্রচর্ম ও মস্তকে জটা থাকিলেও ললাটের ত্রিনয়ন লুক্কায়িত থাকায় এবং সাথে ত্রিশূল ও ডমরু না থাকায় কাহারও সাধ্য নাই তাহাকে কৈলাসপতি শিব বলিয়া শনাক্ত করেন। বরঞ্চ জটাধারী ,ব্যাঘ্রচর্ম পরিহিত অনিন্দ্য সুন্দর যোগী মুর্তি দেখিয়া দেশ বিদেশের পুরুষ স্ত্রী নির্বিশেষে কয়েক শত ভক্ত মহেশ্বরের ওয়ালে মন্তব্য করিলেন। অনেকে তাহার শিষ্য শিষ্যা হইবার মনোবাসনা ব্যক্ত করিলেন। কতিপয় পুরুষ আসক্ত মহিলা এমনকি ইনবক্স ম্যাসেজে তাহাকে পতি রূপে কামনা করিয়া দীর্ঘ প্রেমপত্র প্রেরণ করিলেন। মহেশ্বর অভিভূত, সামান্য এক আলোকচিত্র প্রকাশ করিয়া মাত্র একদিনে এত ভক্তের সাড়া পাওয়া কি কম কথা? পুরাকালে শিব মাহাত্ম প্রচার কল্পে তাহাকে কতই না হীন পন্থা অবলম্বন করিতে হইয়াছে। দৈব বলে বনের সমস্ত পশুপক্ষী কে লুক্কায়িত রাখিয়া ব্যাধ কে ক্ষুধার্ত থাকিতে বাধ্য করিয়াছেন। নিশাকালে হিংস্র জন্তুর আক্রমণের ভয়ে ব্যাধ সন্মুখেই মায়াবলে সৃষ্ট বিল্ববৃক্ষ দেখিয়া তাহাতে আরোহণ করিলে, নিজে বিল্ববৃক্ষের তলদেশে সারা রাত্রি ঠায় বসিয়া থাকিয়াছেন। শেষ রাত্রে ক্ষুধায় কাতর ব্যাধ রোদন শুরু করিলে, তাহার কয়েক ফোঁটা অশ্রুজল গড়াইয়া শিথিল বৃন্তযুক্ত বিল্বপত্রের উপর পতিত হইয়াছে এবং কাকতালীয় ভাবে সেই বিল্বপত্র তাহার মস্তকে পতিত হইয়াছে। তখন তিনি স্বয়ং ব্যাধকে দর্শন ও বরদানে প্রীত করিয়া আপন পূজার মাহাত্ম প্রচার করিয়াছেন। আর এক্ষণে এই অপূর্ব যন্ত্রের কল্যাণে বিনা পরিশ্রমে একদিনেই এত ভক্তের সাড়া পাইলেন। এমন ধারা সচল থাকিলে অতি অল্পকাল মধ্যেই তিনি বহুবন্দিত হইবেন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। অতঃপর মহেশ্বর গণেশের আলোক চিত্র প্রকাশ করিলেন। নারদ সতর্কতা অবলম্বন করায় গণেশের মাথায় মুকুট , হস্তে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম না থাকা সত্ত্বেও গজমুণ্ড ও লম্বোদর হেতু সকলেই গণপতি কে শনাক্ত করিলেন।দেশে বিদেশে বসবাসকারী যাবতীয় গুজরাতি, সিন্ধী ও মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীগণ "গণপতি বাপ্পা মরিয়া" মন্তব্যে মহেশ্বরের ওয়াল পরিপূর্ণ করিলেন। কতিপয় ব্যবসায়ী গণপতির মস্তকে স্বর্ণ মুকুট ও গাত্রে রত্নালঙ্কারাদি অদর্শনে এমন মন্তব্য ও করিলেন যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মোটা দাঁও মারিতে পারিলে অবশ্যই গণপতির নামে স্বর্ণ মুকুট, রত্নালঙ্কার ও কয়েক কুইন্টাল লাড্ডু চড়াইবেন। আপন পুত্রের প্রতি মনুষ্য সমাজের এইরূপ প্রীতি সন্দর্শনে মহেশ্বর আবেগাপ্লুত হইলেন। কার্তিকেয়র আলোক চিত্র প্রকাশ মাত্র চতুর্দিকে সাজো সাজো রবের উদ্ভব হইল। কার্তিকেয়র এমন সুন্দর গ্রীক ভাস্কর্যের মত দিব্য সুন্দর রূপ দর্শনে তাবৎ রমণী কুল প্রেম শরাবদ্ধ হইলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হইতে কয়েক কোটি সুন্দরী যুবতী ইংরাজী, ফ্রেঞ্চ, জার্মানী, রাশিয়ান, পর্তুগীজ, ল্যাটিন, জাপানী, চৈনিক প্রভৃতি বিদেশীয় ভাষায় এবং তামিল, তেলেগু, কন্নর, মালয়ালম, আসামী, বাঙলা , হিন্দী প্রভৃতি ভারতীয় ভাষায় কার্তিক কে প্রেম নিবেদন করিয়া মন্তব্য লিখিলেন এবং সঙ্গে আপনাদিগের আলোকচিত্র প্রেরণ করিলেন। মহেশ্বর স্বগতোক্তি করিলেন: আমার বীর পুত্র কার্তিকেয় দেবতাগণের সেনাপতি, অথচ কোন দেবকন্যা কার্তিকেয় কে প্রণয় নিবেদন করে নাই , তাই সে চিরকুমার রহিয়া গিয়াছে, অথচ মর্ত্যে তাহার কি রূপ জন প্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তা অবলম্বনে গণেশের ন্যায় সর্বত্র কার্তিকের পূজার প্রচলন করিতে হইবে। সর্বশেষে মহেশ্বর একযোগে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর আলোক চিত্র প্রকাশ করিলেন। দেবর্ষি নারদ গুপ্ত ক্যামেরায় দেবী দুর্গার যে আলোকচিত্র গ্রহণ করিয়া ছিলেন, তাহাতে বাহন সিংহের ছবি তো ছিলই না, উপরন্তু দুর্গার ত্রি-নয়ন লুক্কায়িত ছিল এবং দেবীর দশটি বাহুর বদলে মাত্র দুইটি বাহু ছিল। কারণ শুধুমাত্র অসুর বিনাশের প্রাক্কালেই দেবীর দশটি বাহুর উদ্ভব হয় এবং তিনি দশ ভুজে দশ প্রহরণ ধারণ করতঃ অসুরদের বিনাশ করেন। লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর আলোক চিত্রেও কোন বাহনের ছবি বা বীণা বা ঝাঁপি প্রভৃতি পরিচিত বস্তু ছিল না। দুর্গা ও লক্ষ্মীর তপ্ত কাঞ্চন বর্ণ সদৃশ ভুবনমোহিনী রূপ ও সরস্বতীর সৌধ ধবল শ্বেতপ্রস্তরের ন্যায় অপরূপ রূপ লাবণ্য দর্শনে বিশ্ব ব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি হইল। বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের প্রায় সাত কোটি পুরুষ সদস্যের মধ্যে ন্যূনপক্ষে প্রায় পাঁচ কোটি সদস্য মন্তব্যে মন্তব্যে মহেশ্বরের ওয়াল পরিপূর্ণ করিলেন। ফেসবুকে অকস্মাৎ এই জন জোয়ারের প্রভাব দর্শনে ফেসবুকের শেয়ার দর তিন চারি গুন বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইল। মন্তব্য পড়িয়া মহেশ্বরের চক্ষু ক্রোধে অগ্নি বর্ণ ধারণ করিল। দুর্বৃত্ত মনুষ্যগণ দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সুন্দরী রমণী ভ্রমে তাহাদের মনের যাবতীয় লালসা উজার করিয়া মন্তব্য লিখিয়াছেন। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি সমস্ত মহাদেশের পুরুষ দিগের একই রকম আচরণে শঙ্কর মহাক্রোধে কাঁপিতে লাগিলেন। সরোষে নন্দী ভৃঙ্গি ও ভূতগণকে ডাকাইয়া আদেশ দিলেন, "সকলে প্রস্তুত হও,পৃথিবী পাপে পরিপূর্ণ হইয়াছে, এক্ষণি সমস্ত পাপের বিনাশ সাধন না করিলে সৃষ্টি রসাতলে যাইবে। ফেসবুকে যত লম্পট পুরুষগণের নাম পাইবে, সব লিপিবদ্ধ করো, তৎপর একে একে সকলের প্রাণ সংহার করিবে। আমার ত্রিশূল আনয়ন করো, আমি ত্রিশূল নিক্ষেপ করিয়া ফেসবুকের সংযোগ রক্ষাকারী যাবতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ কে এই মুহূর্তে ধ্বংস করিব। আর তোমরা সকলে জননীকে সংবাদ জানাইয়া আইস, এ বৎসরে মর্ত্যভূমে পুত্র কন্যা সহ পিত্রালয়ে ভ্রমণ ও পাপিষ্ঠদের পূজা গ্রহণ আমি নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলাম। সকলে মিলিত ভাবে গালবাদ্য ও ডমরু বাজাও, আমি ধ্বংসলীলার প্রস্তুতি স্বরূপ তাণ্ডব নৃত্য শুরু করি।" অনুচরগণ দেবী দুর্গা কে সংবাদ প্রেরণ করিবার পর মহা সমারোহে ববম...বোম....ববম.....বোম শব্দে গালবাদ্য শুরু করিল ও মহা সমারোহে ডমরু বাজাইতে লাগিল। মহেশ্বর নাচের মুদ্রা শুরু করিবা মাত্র পদকম্পনে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল কাঁপিতে শুরু করিল। প্রবল কম্পনে ও মহা শোরগোলে অন্যান্য দেবতা গণ তথায় উপস্থিত হইলেন। দেবর্ষি নারদ এতক্ষণ অন্তরালে থাকিয়া মজা অনুভব করিতেছিলেন, এক্ষণে সন্মুখে উপস্থিত হইলেন। ইতিমধ্যে পিত্রালয়ে গমন নিষিদ্ধ শুনিয়া মহা ক্রোধে দেবী দুর্গা পুত্র কন্যা সহ তথায় উপস্থিত হইলেন। দেবতা গণ করযোড়ে মহেশ্বর কে কহিলেন,"হে প্রভু সংযত হউন, তাণ্ডব সংবরণ করুন। ক্ষুদ্রমতি নরগণের অন্যায়ের হেতু আমাদের স্বার্থের হানি ঘটান কেন ? আপনি লক্ষ লক্ষ মনুষ্যের প্রাণ সংহার করিলে, আমাদের পূজা কে করিবে ? দেবী দুর্গা মহাক্রোধে ঘূর্ণিত লোচনে কহিলেন, "নাথ, আপনার অনেক অত্যাচার সহ্য করিয়াছি, আপনি দিবা নিশি গাঁজা, ভাঙ সেবন ও কারণ্ বারি পান করিয়া ভূত প্রেতাদি সহ কালাতিপাত করিয়া থাকেন,আমি নীরবে সকল লাঞ্ছনা সহ্য করি। সম্বৎসরে একবার মাত্র পুত্র কন্যা সহ পিত্রালয়ে গমন করি ও ভক্তগণ কর্তৃক পূজা প্রাপ্ত হই। ভক্তগণ সারা বৎসর আমার অপেক্ষায় দিন গণনা করে, আমার পূজাকে উপলক্ষ্য করিয়া মৃতশিল্পী, কুম্ভকার, মালাকার, গন্ধবণিক, মণ্ডপ শিল্পী, চিত্রশিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, আলোক শিল্পী, চর্মকার, তন্তুবায়, বস্ত্র ব্যবসায়ী, ক্ষৌরকার, খলিফা, ঢাকী,পুরোহিত তথা ভিন্ন ভিন্ন বৃত্তিধারীদের প্রচুর অর্থাগম হয়। আমার পূজা বন্ধ হইলে তাহারা সকলে প্রাণে মরিবে। দুঃখের কথা কি বলিব নাথ, আমার পূজাকে উপলক্ষ্য করিয়া বাঙালী কিশোরী, যুবতী ও বিবাহিতা রমণীরা পঞ্চমী হইতে দশমী পর্যন্ত এই ছয় দিনে, দিনে কমপক্ষে তিন বার হিসাবে অন্ততঃ অষ্টাদশ বার কেশ বিন্যাস, নানা মহার্ঘ্য প্রসাধনী সহযোগে রূপচর্চা , ফ্রক, জিনসের প্যান্ট ও শর্ট টপ, মিনি-মিডি স্কার্ট , শাড়ী বা সালোয়ার কামিজে সুসজ্জিতা হইয়া লক্ষ লক্ষ পূজামণ্ডপ আলোকিত করিয়া বসিয়া থাকেন। তাহাদের সৌন্দর্য সুধা পানের উদ্দেশ্যে সদ্য গোঁফের রেখা গজানো কিশোর হইতে ঘাটের মড়া শকুন গলার বৃদ্ধ পর্যন্ত তাবৎ পুরুষ কুল সুসজ্জিত হইয়া তাহাদের পার্শ্বে ঘুরঘুর করিয়া বেড়ায়। আমার পূজা বন্ধ হইলে তাহাদের সকলের মনে দুঃসহ দুঃখানল প্রজ্জ্বলিত হইবে। অতএব নাথ,আপনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করিয়া আমাকে পিত্রালয়ে যাইবার অনুমতি প্রদান করুন,আমি যাইবার আয়োজন সমাপ্ত করি। আর যদি অনুরোধ রক্ষা না করেন,তবে আর একবার দেহত্যাগ করিয়া জ্বালা জুড়াই।"
মহাতেজা রমণীর ঘূর্ণিত লোচন কে উপেক্ষা করিবেন ,এমন দৃঢ়চেতা পুরুষ শুধু মনুষ্য কুলেই নয়, দেব কুলেও দুর্লভ। মহেশ্বর আমতা আমতা করিতে লাগিলেন। ইত্যবসরে সুযোগ প্রাপ্ত হইয়া দেবর্ষি নারদ করজোড়ে কহিলেন, প্রভু আমার নিকট ফেসবুকের বৃত্তান্ত সকল শ্রবণ করুন,অচিরাৎ আপনার ভ্রান্ত ধারণা দূরীভুত হইবে। ফেসবুকের এই যে রমরমা, তাহার প্রধান আকর্ষণ ই নারী। যদি ফেসবুকে নারীর প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়, তবে দেখিবেন সাত কোটি পুরুষ সদস্য হইতে কয়েক মাসে সদস্য সংখ্যা মাত্র কয়েক লক্ষে পরিণত হইবে। কোটি কোটি পুরুষ ও নারীর বিনোদন স্থল এই ফেসবুক। অধিকাংশের ই উদ্যেশ্য দিনভর বিপরীত লিঙের মনুষ্যের সঙ্গে নানা মাধ্যমে চটুল বাক্যালাপ দ্বারা মনের অবদমিত ক্ষুধার নিবারণ করা। এখানে সুন্দরী মহিলাদের কদর সবচেয়ে বেশী। তাহাদের বন্ধু সংখ্যা কাহারও তিন হাজার, কাহারও চার হাজার, কাহারও বা পাঁচ হাজার ছুঁই ছুঁই। তাহাদের অধিকাংশের ই একমাত্র কাজ কয়েক দিন পর পর নিজের নানা ভঙ্গীর আলোক চিত্র দ্বারা প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তনের মাধ্যমে আপন সৌন্দর্য জাহির করা তথা একদল ভেড়া মার্কা মুর্খ স্তাবক দল সৃষ্টি করা। ঐ সুন্দরী রমণী যদি একটি বিড়াল ছানার ছবি ও পোষ্ট করেন, তবে তৎক্ষনাৎ শত শত মুগ্ধ স্তাবক মন্তব্য লেখেন, এমন সুন্দর বিড়াল ছানা তাহারা ভূ-ভারতে দেখেন নাই। একদল পুরুষ সদস্যের একমাত্র কাজ, সারাদিন মহিলা সদস্যাদের স্তাবকতা করা , ম্যাসেজ ও চ্যাটিং এর মাধ্যমে মহিলাদের উত্যক্ত করা ও প্রেম নিবেদন করা। মা জননী দুর্গা ও লক্ষ্মী সরস্বতী র আলোক চিত্রে এই শ্রেণীর রুচিহীন ঘৃণ্য সদস্যরাই মন্তব্য প্রেরণ করিয়াছিলেন। আর বিলাসিনী মহিলারাই কার্তিকের আলোক চিত্রে মন্তব্য লিখিয়াছিলেন। ফেসবুকে শত শত কবি ও সাহিত্যিকের ভীড়, শতাধিক কবিতার গ্রুপ, সর্বত্রই গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল দশা প্রাপ্ত ব্যক্তিতে পরিপূর্ণ। কবিতার নামে সব দুর্বোধ্য লেখার ছড়াছড়ি। লেখক নিজেই জানেন না, কি লিখিয়াছেন। অভিধান হইতে কঠিন কঠিন শব্দ চয়ন করিয়া মৃত অক্ষরের মত সাজাইয়া সব কবিতা রচনা করেন। তাহাতেই তাহাদের আঁতলামির সীমা নাই। আপনি ও প্রভু ভুল করিয়াছেন। দেবীরা ঐশ্বর্যশালীনি,স্বর্ণালঙ্কারাভরণ সুসজ্জিতা,মস্তকে স্বর্ণ মুকুট,হস্তে লীলাকমল ধারিনী ও বাহনে উপবিষ্টা না হইলে কেহ দেবী বলিয়া জ্ঞান করে না, তাই ঐ বিপত্তি ঘটিয়া ছিল। আপনি সমস্ত অবগত হইলেন,এক্ষণে মা জননী কে পিতৃ আলয়ে গমনের অনুমতি প্রদান করুন। আর মা জননীরা যখন মর্ত্যভূমে পূজা গ্রহণ করিবেন, তখন আপনি কৈলাসে বসিয়াই এই ল্যাপটপের সাহায্যে কোথায় কত সমারোহ, কোথায় কেমন মণ্ডপ ও আলোক সজ্জা,সমস্ত দেখিয়া বিশেষ পুলকিত হইবেন। অতঃপর পরমেশ্বর মা দুর্গাকে পিত্রালয়ে গমনের অনুমতি দিলেন ও হাস্যমুখে নারদকে কহিলেন, "বৎস, মা জননীর আগমনী গ্রচার যেমন আবশ্যক, তেমনি , ফেসবুকের এই সব নোংরা মানুষ গুলিকেও সতর্ক করা উচিত, নারী রা দেবী না হইলেও দেবীরই অংশ, কারণ দেবী না হইলে মা হওয়া যায় না। তুমি কোন ফেসবুকের লেখক কে দিয়া এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করাইয়া অবিলম্বে ফেসবুকে প্রচারের ব্যবস্থা করো।" নারদ কহিলেন, "প্রভু, হিমালয়ের পাদদেশে শিলিগুড়ি নামক ভূখণ্ডে,এক ধর্মভীরু নিষ্কর্মা ব্যক্তি বাস করেন। তিনি ছোট খাটো কবিতাও লিখিয়া থাকেন।আপনি স্বপ্নে তাহাকে আপনার জানা ঘটনা টুকু দিব্যশক্তি বলে প্রত্যক্ষ করাইয়া আদেশ করিবেন,যেন অবশ্যই ''দেবীর আগমনী সংবাদ '' নামে রম্যরচনা লিখিয়া ফেসবুকে প্রচার করেন। আমিও আপনার পরে পরেই তাহাকে স্বপনে দেখা দিয়া আপনার জানা অংশের পূর্ববর্তী অংশ,এবং আমার মহিমা প্রচারের আদেশ দিব, তবেই আমাদিগের কার্য সিদ্ধি হইবে।

"কার্যাঞ্চাগে নারদ তথা শিবানুমত্যানুসারে লিখিতং ইতি।

******************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
******************************

Creative Commons License
রম্য রচনা: দেবীর আগমনী সংবাদ by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in


[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">রম্য রচনা: দেবীর আগমনী সংবাদ </span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=2602637294212771993" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL"> সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Thursday, October 11, 2012

যদি আমায় ডাকো - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



যদি আমায় ডাকো

তোমরা আমার কত আপন,জানতে চেয়ো নাকো,
 চাইলে মনে,প্রয়োজনে ইচ্ছা হলেই ডেকো।
বন্ধু আমি তত দিন ই,বলছি অকাতরে,
 না চাও যদি সহায়তা পড়লে আতান্তরে।
পরের উপকারে আমার অনীহা টা ই বেশী,
হও না তুমি যতই আপন,নিকট প্রতিবেশী।
অসুখ-বিসুখ হ'লে কারও,ভুলেও খবরদার
খবর আমায় পাঠিয়ো না,বলছি যে বার বার।
নই কবিরাজ,ডাক্তার ও নই,করবো টা কি গিয়ে?
কঠিন ব্যামো হলে দেখাও হাসপাতালে যেয়ে।
ছোট খাটো ব্যাধির বালাই চিকিৎসাতেই সারে,
খবর না হয় জানিয়ে দিয়ো সুস্থ হবার পরে।

ঝগড়াঝাঁটি,মারামারি,পাকা ধানে মই,
এ সব দেখে চিরকালই চুপটি করে রই।
খবর দিলে না যাই যদি,দিয়ো না কো দোষ,
নিজের খেয়ে কে তাড়াবে পরের গরু,মোষ?
সংসারেতে অভাব হলে,চেয়ো না কেউ টাকা,
অভাগা কে ঋণ দিয়ে ফের পস্তাবে কোন বোকা!
বাজারেতে ছড়িয়ে আছে কত মহাজন,
সুদে টাকা ধার নিয়ে নাও,করছে কে বারণ?
বন্ধু যখন,আসতে পারো আমার খবর নিতে,
কিন্তু বলি,দরকার-ই কি অধিক পীরিতি তে?
তোমার মত তুমি থাকো,আমার মত আমি,
'নিজের চেয়ে কেউ বড় নয়'-এই কথাটাই দামী।

তাই বলে কেউ ভুল ধারণার ঠাঁই দিয়ো না মনে,
অসামাজিক মানুষ আমি,যাই না কোন স্থানে।
অন্নপ্রাশন,উপনয়ন,নাহয় জন্ম দিনে,
শ্রাদ্ধবাসর,বিয়ের আসর,সকল নিমন্ত্রণে,
সবার আগে হাস্যমুখে,খালি হাতেই যাই,
লৌকিকতার কি প্রয়োজন,ভেবেই তো না পাই।
মনের টানে যাই যেখানে আপন ভাবি ব'লে,
উপহারে বাড়তি খরচ করলে কি আর চলে?
খরচ করেই খাব যদি কিসের নিমন্ত্রণ ?
আত্মীয়তার মূল্যস্বরূপ গচ্ছা দেব ধন?
মানুষ আমি সহজ-সরল,মনটা পরিস্কার,
প্রয়োজনে ডেকো আমায়,যখন যা দরকার। 

************************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
************************************

Creative Commons License
যদি আমায় ডাকো by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">যদি আমায় ডাকো </span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=4489256708105788013" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL"> সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Wednesday, October 3, 2012

আগমনী ও কবির অভিমান - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি


আগমনী ও কবির অভিমান


জগৎ জননী মা গো,আসিছ ধরাতে,

তব আগমনী গাথা গাহে প্রকৃতিতে।
চারিদিকে আয়োজন কত সমারোহ,
যে দিকে তাকাই শুধু খুশীর আবহ !
প্রতি গৃহে নব বস্ত্র,সজ্জা রকমারি,
ভূষণ,পাদুকা নব,পণ্য মণিহারী।
ভ্রমণেতে যায় সবে দেশে ও বিদেশে,
রকমারি ভোজ খায় সুখের আবেশে।
পূজার মণ্ডপে কত সাজের বাহার,
দেউল,মিনার গড়ে,ঝরণা,পাহাড়।
রঙ্গীন আলোক মালা,কত রোশনাই,
ঢাক-ঢোল,কোলাহল,নবত,সানাই।

মহাশক্তি মহামায়া,দিব্যদৃষ্টি বলে,

দেখিতে কি পাও তুমি,এই ধরাতলে -
ধনবান,ধনহীন দুই শ্রেণী আছে,
মহা সুখী ধনী গণ,নির্ধনে কাঁদিছে ?
দীন,হীন নর নারী,নাই বাস গৃহ,
অনাহারে নিত্য মরে,দেখে না তো কেহ।
আঁধারে লুকায়ে কাঁদে ধনহীনা নারী,
পরনে সম্বল মাত্র শতচ্ছিন্ন শাড়ি।
অস্থি চর্ম সার কত শিশু রাজপথে.
অসহায় কেঁদে ফেরে ভগ্ন মনোরথে।
তাদের বাসনা নাই ? চায় না কো সুখ ?
মাতা হয়ে তবে কেন দাও সবে দুঃখ ?

সকলে সন্তান যদি,ভেদ কেন তবে ?

বহমান দুটি ধারা এক উৎসবে।
সুসজ্জিত নর নারী,করে কোলাহল,
মলিন বসনে দূরে রহে আর দল।
আতশ বাজির ছটা মিলায় আকাশে,
আঁধার গৃহেতে কেহ আঁখি জলে ভাসে।
মণ্ডপে আলোক মালা,মহা রোশনাই,
কোথাও আঁধারে ঢাকা,নাই শুধু নাই।
একই পূজা প্রাঙ্গণে,সবে মিলে মিশে,
কেহ দুঃখে ভাসে আর কেহ সুখে হাসে।
দেউলে,মণ্ডপে তুমি মহাপূজা পাবে,
নিরন্ন সন্তান তব অনাহারে রবে ?

জগতের মাতা রূপে গরব তোমার,

তবে কেন ধরাতলে এত অবিচার ?
কাঙাল দেখিলে সবে করে অবহেলা,
পদে পদে পিছে ঠেলে,এ কি তব লীলা !
তুমি যদি অন্নপুর্ণা,বলো দৃপ্ত স্বরে,
কেহ নাহি রবে দুঃখী,নিত্য অনাহারে।
গৃহহীনে গৃহ দাও,বস্ত্র বস্ত্রহীনে,
তোমার মহিমা বৃদ্ধি পাবে দিনে দিনে।
প্রতি বর্ষে এসো তবে,দেবী দশভূজা,
সমাদরে দেবালয়ে করি তব পূজা।
ভেদ ভাব না ঘুচায়ে,পূজা তুমি পাবে,
দীনমুগ্ধ হীন কবি তোমারে ত্যজিবে।

*******************************

সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
*******************************
Creative Commons License
আগমনী ও কবির অভিমান by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়িis licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.
Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">আগমনী ও কবির অভিমান</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=196918574323858977" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Thursday, September 27, 2012

নবমী রজনী শেষে - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



নবমী রজনী শেষে

নবমী রজনী শেষে,ঊষার লগনে,
মিনতি করিছে উমা নিশাপতি সনে-
"যেয়ো না বিদায় লয়ে,শুন নিবেদন,
তুমি গেলে গগনেতে উদিবে তপন।
নবমীর অবসানে,দশমীর প্রাতে,
প্রাণপ্রিয় পিতৃগৃহ হইবে ত্যজিতে।
জনম দুঃখিনী নারী পুরুষের বশে,
পিতা-মাতা ছাড়ি রহে পতির আবাসে।
বর্ষকালে চারি দিন পিত্রালয়ে স্থিতি,
পূরে কি মনের আশ ? কহ নিশাপতি।
দয়া করি দুঃখিনীরে,বিচর গগনে,
প্রাণ ভরি শেষ বার দেখি পরিজনে।"
এতেক কহিয়া উমা অশ্রুজলে ভাসে,
দশমীর বার্তা লয়ে দিবাকর হাসে।

*****************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
*****************************
Creative Commons License
নবমী রজনী শেষে by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in


[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">নবমী রজনী শেষে</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=8707825546152313883" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Monday, September 24, 2012

মেনকার আবেদন - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি


মেনকার আবেদন

কহিলা আনত স্বরে,মেনকা সুন্দরী,
শুন নাথ গিরিরাজ,মিনতি যে করি-
"বর্ষ আজি গতপ্রায়,অন্তরেতে দুঃখী,
কত কাল হেরি নাই উমা বিধুমুখী।
রূপে-গুণে শ্রেষ্ঠা উমা,রাজার ঝিয়ারী,
জামাতা লভিনু নাথ,মহেশ ভিখারী।
কটিদেশে ব্যাঘ্রচর্ম,শিরে জটাজাল,
ভস্মাবৃত সর্ব অঙ্গ,গলে নাগ মাল।
বৃষভ বাহন,কর্ণে ধুতুরার ফুল,
রুদ্রাক্ষ ভূষণ মাত্র,আয়ুধ ত্রিশূল।
শ্মশানে মশানে স্থিতি,ডমরু বাজায়,
ভূত প্রেত সহচর,লাজে মরি হায়!
একবার আনো উমা,করিতেছি পণ,
দিব না ফিরিতে তারে কৈলাস সদন।"

****************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

****************************
Creative Commons License
মেনকার আবেদন by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in


[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">মেনকার আবেদন</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=1512038727520665134" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Friday, September 21, 2012

আগমনীর ছড়া - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



আগমনীর ছড়া

ভক্তে দেখা দিতে উমার ধরায় আগমন,
জলে স্থলে আকাশে তাই খুশীর আবাহন
নীল আকাশে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘের স্তুপ,
সোনার বরণ রৌদ্র মেখে রূপটি অপরূপ
হলদে সবুজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র-ছায়ার খেলা
তুষার ধবল কাশের বনে হাওয়াতে দেয় দোলা
নিথর দীঘির জলে ভাঙে পদ্ম ফুলের ঘুম,
হেথায় হোথায় খালে-বিলে শাপলা ফোটার ধুম
রঙ্গীন ডানা প্রজাপতি ফুলে ফুলে ওড়ে,
মৌমাছিরা বাসা বানায়,খুশীতে গুঞ্জরে
শিশির ভেজা শিউলি ফুলের সুবাস ছড়ায় বনে,
প্রকৃতিতে রূপের বদল উমার আগমনে।।

গিরিরাজের কন্যা উমা,মহেশ্বর জায়া,
স্বয়ংসিদ্ধা ভগবতী,ঘোরা,মহামায়া।
রক্তবীজ,আর শুম্ভ সহ নিশুম্ভ ঘাতিনী,  
চণ্ড মুণ্ড বিনাশিনী,চণ্ডিকা রূপিনী।
মহিষ মর্দিনী দেবী,দেবতা পূজিতা,
একাধারে কন্যা উমা,দুর্গা জগন্মাতা।
মর্ত্যে যে তার পিতৃগৃহ,প্রগাঢ় ভালবাসা,
চার টি দিনের জন্য কেবল প্রতি বছর আসা।
সঙ্গে আনেন দুই কন্যা,লক্ষী সরস্বতী,
দুই পুত্র কার্তিক আর সিদ্ধি গণপতি
কন্যা রূপে স্নেহ যাচেন আপন পিত্রালয়ে,
মাতৃরূপে পূজা গ্রহণ করেন দেবালয়ে।

রামচন্দ্র রাবণ বধের হেতু শরৎ কালে
দেবীর বোধন,পূজা করেন নিতান্ত অকালে।
সে দিন হতেই শরৎ কালে পূজার প্রচলন,
ষষ্ঠীতে হয় বোধন,দেবীর মর্ত্যে আগমন।
সপ্তমী আর অষ্টমীতে মহা আড়ম্বর,
নবমী নিশিতে ধরা বেদনা নিথর।
দশমী তে পূজা শেষে দেবীর বিসর্জন,
কৈলাসেতে ফেরেন উমা পতির সদন।
শরৎ কালে পূজা যে তাই শারদীয়া নামে,
দেবীর পূজা প্রচলিত হলো ধরাধামে।
দুর্গা নামের কারণ,দেবী দুর্গতি নাশিনী,
তার আগমন বার্তা তে গায় কবি আগমনী।

*************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

*************************

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">আগমনীর ছড়া </span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=128982427762760863" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Tuesday, September 18, 2012

আবাহনী - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি



আবাহনী

গিরিসুতা,হেমকান্তি,দুর্গতি নাশিনী,
হরপ্রিয়া,মহামায়া,গনেশ জননী।
পুত্র বীর কার্তিকেয় দেব সেনাপতি,
রূপগুণ ধন্যা সুতা,লক্ষ্মী,সরস্বতী। 
মহাতেজাঃ দশভুজা,দশ প্রহরণ
শোভিতা,কেশরীরাজ ভয়াল বাহন।
দনুজদলনী,ভালে শোভে ত্রি-লোচন,
ষড়ৈশ্বর্য প্রদায়িনী,বন্দ্যা ত্রিভুবন।
আদিভূতা,সর্ব ভূতে শক্তি রূপে স্থিতা,
তমোগুণ বিনাশিনী,ভদ্রা,জগন্মাতা।
রূপ,যশ,জয় দাত্রী,অভয়া রুদ্রাণী,
ভক্ত বাঞ্ছা কল্পতরু,কৈবল্য দায়িনী।
দেব,দ্বিজ,শূর,নর,পূজে সর্ব জনে,
শারদীয় মহাপূজা অকাল বোধনে।

****************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
****************************

Creative Commons License
আবাহনী by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">আবাহনী</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=3735217743409653430" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Saturday, September 15, 2012

আমি ও আমার ঋণ - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি






আমি ও আমার ঋণ

দিন ফুরালো;শুরু হলো,নিজের মনেই খোঁজা,
এই জীবনে কার কাছে মোর কত ঋণের  বোঝা।
পিতা-মাতার ভালবাসায় জন্মে ছিলাম আমি,
তাদের প্রতি ঋণের হিসাব করাই যে মূর্খামি।
আমার সারা জীবনেতে যা কিছু অর্জন,

তাদের ঋণের তুলনাতে নগন্য সে ধন।
যা কিছু যশ,সুকৃতি লাভ ঘটেছে জীবনে,
নত শিরে অঞ্জলি দিই তাদের শ্রী-চরণে।

জন্মভূমির আলো,বাতাস,জল ও মাটির গুণে,

শিশু থেকে বড় হলাম ক্রমে দিনে দিনে।
জন্মভূমি মাতার সমান,শাস্ত্রমতে জানি,
প্রণাম তোমায় জন্মভূমি,তোমার কাছে ঋণী।
ছাত্র যখন,শিক্ষকেরা দিলেন আমায় দান,
আঁধার হতে আলোর পথে উত্তরণের জ্ঞান।
তাদের কাছে শিক্ষা পেয়ে হলাম জ্ঞানী গুণী,
শিক্ষাগুরুর কাছে আমি চিরকালের ঋণী।

লেখাপড়ার শেষে পেলাম সরকারি চাকুরি,
শাসক শোষক যা মনে হোক,তার-ই কর্মচারী।
জীবনেতে সুখের সোপান,অন্নসংস্থান,
সচ্ছলতা,নিশ্চয়তা,প্রভূত সন্মান।
ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ,বাসগৃহ নির্মাণ,
শ্রমের বিনিময়ে পেলেও সরকারের-ই দান।
অবসরের পরে ও আমার ভার তাদের-ই জানি,
সারা জীবন অন্নদাতার কাছে আমি ঋণী।

যৌবনেতে বিবাহেতে স্ত্রী-কে পেলাম কাছে,
তার চেয়ে আর বড় আপন,কে আর বলো আছে?
শীর্ণ নদী সম জীবন ছিল যে আমার,
ভালবাসার জোয়ার পেয়ে হলো পারাবার।
ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখী,এই যে গৃহকোণ,
একটি নারীর অবদানেই ধন্য এ জীবন।
কি চেয়েছি,কি পেয়েছি,হিসাব কি তার জানি?
শূন্য জীবন পূর্ণকারী স্ত্রী-র কাছে তাই ঋণী।

ছেলে মেয়ে পালন ক'রে পেলাম কত সুখ,
তাদের সুখেই পরাণ সুখী,গর্বে ভরে বুক।
আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা কে রূপ দিয়েছে তারা,
তাদের মাঝেই থাকব বেঁচে,হবো না নাম হারা।
অনিত্য এ সংসারেতে স্থায়ী কেহই নয়,
বংশধরের মাঝে বাঁচে জীবের পরিচয়।
পরম স্নেহের আকর তারা,অতুল রতন,মণি,
ভালবাসার অন্ধ স্নেহে তাদের কাছেও ঋণী।

বাঁচতে হলে পদে পদে হাজার জিনিস চাই,

অজ্ঞাত সব লোকের শ্রমে সময় মতই পাই।
শ্রমিক,চাষী,ব্যবসায়ী,নানান বৃত্তিজীবী,
সারা জীবন দিচ্ছে যোগান,যা প্রয়োজন সব-ই।
অল্প বেশী যেমনই হোক,তাদের সেবার ফলে,
দিব্যি কেটে যাচ্ছে জীবন,পড়ি নি তো জলে।
সরল চোখে যদি ও সেবা অর্থ দিয়েই কিনি,
সূক্ষ্ম বিচার করলে পরে ওদের কাছেও ঋণী।

আস্তিকে আর নাস্তিকেতে দেখি নি তফাত,
যার প্রয়োজন যেমন ধারায়,তেমন মতামত।
দেবতা সে সাকার-ই হোক,কিংবা নিরাকার,
আসলে তা সৎ পথেতে বাঁচার হাতিয়ার।
ধর্ম করে সমাজ ধারণ,নাশে কলুষতা,
পরস্পরে বন্ধু ক'রে গড়ে যে একতা।
সঠিক পথে চলা যদি ধর্ম বলে মানি,
ধর্ম পালন করেন যারা,তাদের কাছেও ঋণী।

এক জীবনে আমি যদি এত ভাবেই ঋণী,
তবে কেন অন্তরেতে এত অভিমানী?
চারদিকে ঋণ জমে আছে পাহাড় প্রমান হয়ে।
জগৎ থেকে বিদায় নেবো ঋণের বোঝা নিয়ে?
কি ভাবে ঋণ মিটবে আমার,কি সে সমাধান?
ভেবে দেখি,ঋণ হলো এক কৃতজ্ঞতার টান।
শ্রদ্ধা,ভালবাসা মনে জাগায় ঋণের বোধ।
সমান-অধিক প্রতিদানে হয় সে ঋণের শোধ।

জীবন হলো ঋণী হয়ে,ঋণ চুকানোর লীলা,
আদি হতে অনন্তকাল চলেছে এই খেলা।
জন্মভূমি,শিক্ষাদাতা,অন্নদাতার ঋণ,
আমার সেবার মূল্যেতে শোধ হচ্ছে প্রতিদিন।
পুত্র হয়ে ঋণ যা ছিল,পিতা হওয়ায় লয়,
সবার কাছে সবাই ঋণী,ঋণেতে ঋণ ক্ষয়;
একটি কেবল ঋণ রয়েছে,শোধ কভু না হয়,
মায়ের কাছে ছেলের যে ঋণ,অমর ও অক্ষয়।

*************************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি

*************************************
Creative Commons License
আমি ও আমার ঋণ by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in


[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">আমি ও আমার ঋণ</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=6031659643373408276" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Wednesday, September 12, 2012

আগমনী - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি


আগমনী

কোমল সবুজ ঘাসের ডগায়,
প্রভাত রবির আলোক ছটায়
মুক্তা সম শিশির টলমল।
শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস,
হালকা হিমের মধুর আভাস
বইছে বাতাস মৃদু এলোমেলো।

নীল আকাশের নীল সায়রে,
পেঁজা তুলার ভেলায় চড়ে
অলক মেঘের দিলখোলা ঐ হাসি।
খালে-বিলে,ঝিলের জলে,
পদ্ম,শালুক পাপড়ি  মেলে,
ছড়িয়ে শোভা ভাসছে রাশি রাশি।

স্নিগ্ধ সবুজ মাঠের ধারে,
কাশ ফুটেছে সারে সারে,
শ্বেত-পতাকা যেন দোদুল দোলে।
মৌমাছিদের আনাগোনা,
গুঞ্জরণের উন্মাদনা
শরৎ ঋতুর রঙ্গীন ফুলে ফুলে।

কুমোর পাড়ায় জাগলো সাড়া,
ঘরে ঘরে মূর্তি গড়া,
মাটির প্রলেপ চলছে দিনে-রাতে।
ঢাকী,ঢুলী গাঁঠরি খুলে,
ঢাক,ঢোল নেয় কাঁধে তুলে,
ড্যাং কুড়াকুড় বাজায় মহড়াতে।

খুশীর আমেজ মন কে ছেয়ে,
পুরানো সেই পথটি বেয়ে
মনে যেন জাগায় ব্যাকুলতা।
শারদীয়ার আগমনী,
পাঠায় নীরব বারতা খানি,
চেনা সুরে অন্তরে যা গাঁথা।

*****************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
******************************

Creative Commons License
আগমনী by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in

[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">আগমনী</span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=4837869871888867780" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]

Sunday, September 9, 2012

কবি যখন - সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি


কবি যখন 

কবি যখন স্বপ্ন দেখেন আপন অন্তরে,
সীমারেখার বাঁধন তো নাই,বাঁধবে কে আর তারে?
বিশ্ব চরাচরে যত গোপন নীরব বাণী,
কবির হৃদয় মাঝে করে আপনি কানাকানি।
স্বপ্ন দেখেন,রচেন কবি ছন্দ-বাণী গাথা,
অচিন জগৎ ,অচিন  দেশের অজানা রূপকথা।
ছন্দ মায়ার আলো-ছায়ার লীলা কবির মনে,
স্বপ্ন দিয়ে স্বপ্ন গেঁথে স্বপ্নের-ই জাল বোনে।

কবি যখন 'কাব্য' রচেন আত্মপ্রকাশ ছলে,
স্বপ্নে দেখা নীরব বাণী আপন কথা বলে।
প্রেম,বিরহ,বীরত্ব রস,কৌতুকেতে কবি,
ছন্দে গাঁথেন সমাজ-জীবন,সংসারের ও ছবি।
রূপ পাওয়া সব চরিত্র রা,পেয়ে সেথায় প্রাণ,
হাসে,কাঁদে,কথা বলে,আনন্দে গায় গান,
কীর্তি রচে,কীর্তি নাশে,পূরায় মনের আশা,
'কাব্য' যেন কবির মনের "শ্রেষ্ঠ ভালবাসা"।

কবি যখন আপন হতে বাস্তবেতে ফিরে-
মন্দ-ভালো,আঁধার-আলো দেখেন বিচার ক'রে,
নিজেই কবি হাসেন,কাঁদেন,জানান অভিমান,
কবি মনের অনুভবেই 'কবিতা' পায় প্রাণ।
কবি শেখান জগৎ টা কে জানতে নতুন ক'রে,
যোগান আশা,বল-ভরসা,দুর্বল অন্তরে।
সর্বহারা জেগে ওঠে,বিপ্লবী গায় গান,
আগুন জ্বলে,অত্যাচারীর হয় যে অবসান।

**********************************
সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি
**********************************
Creative Commons License
কবি যখন by সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License.Based on a work at samarkumarsarkar.blogspot.in


[<a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US"><img alt="Creative Commons License" style="border-width:0" src="http://i.creativecommons.org/l/by-nc-nd/3.0/88x31.png" /></a><br /><span xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" property="dct:title">কবি যখন </span> by <a xmlns:cc="http://creativecommons.org/ns#" href="http://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1050337976214013732#editor/target=post;postID=4004197346392690783" property="cc:attributionName" rel="cc:attributionURL">সমর কুমার সরকার / শিলিগুড়ি</a> is licensed under a <a rel="license" href="http://creativecommons.org/licenses/by-nc-nd/3.0/deed.en_US">Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivs 3.0 Unported License</a>.<br />Based on a work at <a xmlns:dct="http://purl.org/dc/terms/" href="samarkumarsarkar.blogspot.in" rel="dct:source">samarkumarsarkar.blogspot.in</a>.]